যুগান্তর রিপোর্ট
শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন গোয়েন্দাদের বলেছে, আমরা কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করি না, বিশ্বাসঘাতক হলেন লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনিই সন্ত্রাসীদের মানুষ হত্যার নির্দেশ দেন। আবার তিনিই সন্ত্রাসীদের ক্রসফায়ারে ফেলার ব্যবস্থা করেন। ইমন পুলিশকে বলেছে, বাবর একজন প্রতারক। তিনিই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সন্ত্রাসী। তিনিই ছিলেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের ‘মহাগুরু’। তার ক্যাডার বাহিনী এখন আমেরিকা থেকে শুরু করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কলকাতাসহ বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন প্রথম দফার রিমান্ডের ৮ দিনে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। আজই তাকে এসব বিষয়ে টাস্কফোর্স ইন্টারন্যাশনাল সেলে (টিএফআই) ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ইমনের মুখ থেকে জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। সূত্র জানায়, ভারতে বসেই জোট সরকারের এই প্রতিমন্ত্রীর কল্যাণে সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশ সরকারের সব সিদ্ধান্ত জেনে যেত। আন্ডারওয়ার্ল্ড অশান্ত হয়ে উঠত বাবরের নির্দেশেই। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী বাবরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে। বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে দেখা যায়, হেন কোন অপরাধ-অপকর্ম নেই যা বাবর করেননি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট ও হাওয়া ভবনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত সাবেক প্রতিমন্ত্রী বাবর তার ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবসায়ী, পুলিশ কর্মকর্তা ও রাজনীতিবিদসহ এমন কেউ নেই যার ওপর তিনি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেননি। নিজের স্বার্থে পুলিশকে ব্যবহার করেছেন। আবার সেই পুলিশকেই ফাঁদে ফেলে গ্রেফতার করিয়েছেন।
পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর বেশিরভাগেরই গডফাদার লুৎফুজ্জামান বাবর। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েও সারাদেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন বলেছে, ‘বাবর পুলিশের কাছে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন, কিন্তু তিনি আমাদের কাছে বড়ভাই।’ ইমন বলেছে, প্রতিমন্ত্রী বাবর পুলিশ এবং সন্ত্রাসীদের সঙ্গে দ্বৈত ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি হলেন দু’মুখো সাপ। ইমনের দেয়া তথ্যে গোয়েন্দারাও হতবাক হয়েছেন।
সন্ত্রাসীদের দিয়ে প্রতিপক্ষকে হত্যার পরিকল্পনা, চোরাচালান আর ঘুষ গ্রহণই শেষ কথা নয়, বাবরের অপকর্ম ও কুকীর্তির দীর্ঘ ফিরিস্তি এখন গোয়েন্দাদের হাতে। সূত্র জানায়, হেন অপরাধ-অপকর্ম নেই, যা বাবর করেননি। তাকে গ্রেফতারের পর ভূরি ভূরি অভিযোগ মিলছে তার বিরুদ্ধে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলেছে, তিনি তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে রক্ষা করার জন্যই সুকৌশলে সবাইকে একে একে বিদেশে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। ফলে ২০০১ সালে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা করে তাদের ধরার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও পুলিশ সফল হতে পারেনি। ১২ সন্ত্রাসীকে আজও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। ইমন পুলিশকে বলেছে, লুৎফুজ্জামান বাবরের পরামর্শে সেসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অনেকেই দেশ থেকে পালিয়ে যায়। ইমন জানিয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অন্যতম টোকাই সাগর ছিল বাবরের ব্যবসায়িক পার্টনার। দু’জন মিলে জিয়া বিমানবন্দরের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করত। প্রথম ধাপেই বাবর টোকাই সাগরকে বিদেশে পালাতে সহায়তা করেন। এর পর থেকে একে একে সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ, হারিসসহ অনেক পুরস্কার ঘোষিত সন্ত্রাসী বাবরের কারণেই দেশ ছেড়ে নিরাপদে ভারতে আত্মগোপনে চলে যায়। ইমন বলেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা জাহাঙ্গীরের সঙ্গেও বাবরের ঘনিষ্ঠতা ছিল। ২০০৩ সাল পর্যন্- সে এ খবর রাখলেও পরে কি হয়েছে তা বলতে পারেনি। সূত্র জানায়, বাবর কেবল সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণই করতেন না, তিনি নিজেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত ছিলেন। নিজে ব্রিফকেস ভরে স্বর্ণ নিয়ে জিয়া বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফিরেছেন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পাঁচ বছরে বাবর অস্ত্র, স্বর্ণ, মোবাইল ফোন সেট ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী চোরাচালানে জড়িত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার মাঝামাঝি সময়ে তিনি ভূমিখেকো হয়ে ওঠেন। এজন্য সখ্য গড়ে তোলেন বসুন্ধরার সঙ্গে। রাজধানীর ভেতরে-বাইরে ৮-১০টি ফ্ল্যাট, প্লট, বাড়ি আর সাভারের মিটন গ্রামে জমি দখল করে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ছিল তার টার্গেট।
একদিকে বাবরের যেমন সন্ত্রাসী কানেকশন ছিল, তেমনি তিনি পাঁচ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। গ্রেফতারের পর বাবর টাস্কফোর্সের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য প্রকাশ করেন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মামলার তদন্ত প্রভাবিত করে বাবর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, কিবরিয়া হত্যা মামলা, বসুন্ধরার আইটি বিশেষজ্ঞ হুমায়ুন কবির হত্যা, রমনা বটমূলে বোমা হামলাসহ দেশে যত বড় বড় অঘটন ঘটেছে, সেসব মামলায় নাটক সাজানোর জন্য সিআইডিতে একটি বিশেষ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। ইতিমধ্যে সাবিবর হত্যা মামলায় সিআইডি প্রিজন সেলে বাবরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সূত্র জানায়, এখন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও কিবরিয়া হত্যা মামলা এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী কানেকশনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের তদন্-কারী কর্মকর্তারা হতবাক। বাবর চক্রের পরিধি কতদূর বিস্তৃত ছিল সেটি এখন পুলিশ কর্মকর্তাদেরও প্রশ্ন।
সিআইডির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে সন্ত্রাসী কিলার আববাস, পিচ্চি হান্নানসহ অনেকে ধরা পড়ার পর তারা নানা ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে। ইমনও সিআইডি হেফাজতে ভয়ংকর কিছু তথ্য দিয়েছে। ৯ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ ছিল সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে নিয়ে। ইমনের মাও বলেছেন, তার ছেলের অন্ধকার পথে পা বাড়ানোর অন্যতম পথপ্রদর্শক হলেন লুৎফুজ্জামান বাবর। এ পর্যন্ত রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন বাবরের চোরাচালানের অনেক কাহিনী ফাঁস করে দিয়েছে। সে বলেছে, টোকাই সাগরের ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়ে বাবর ওই দায়িত্ব তুলে দেন ইমনের ওপর। এর আগে সে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়ালেও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল না। বাবরের চোরাচালান কাহিনী নিয়ে তিনি নানা সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। একটি চোরাচালান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন এএসপি আবদুল বাতেন। তার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত করায় তিনি সিআইডি থেকে বাতেনকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ঘুষ দেয়ার নাটক সাজিয়ে তাকে গ্রেফতার করান। নিজে সাধু সেজে এভাবে তিনি পুলিশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতেও কুন্ঠাবোধ করেননি।
৭ মার্চ ইমনকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর ৮ মার্চ তাকে আদালতে হাজির করে ৮ দিনের রিমান্ডে নিলে সে প্রথমেই সিআইডিকে বাবরের সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকার কথা খুলে বলে। সে জানায়, বাবরের নির্দেশেই সে ভারতে পালিয়ে যায়। সে জানায়, বাবরের এলাকা নেত্রকোনার মদন থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর চেয়ারম্যান শফিকুল আলম তালুকদার ওরফে লিটনকে হত্যার জন্য বাবর তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইমনের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়। ফলে স্থানীয়ভাবে লিটন তার পরিচিত। তাদের রাজনৈতিক আদর্শও অভিন্ন। তাই লিটনকে হত্যা করতে রাজি হয়নি ইমন। ফলে ২০০৪ সালে ইমনকে চূড়ান্তভাবে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেন বাবর। ইমন বলেছে, এর আগে সে দেশত্যাগ করলেও অসংখ্যবার দেশে এসেছে। তখনও বাবরের সঙ্গে রীতিমতো তার যোগাযোগ ছিল। সরকারের সিদ্ধান্তের কথা তারা ভারতে বসেই জেনে যেত। তদন্-কারীরা বলেছেন, টিএফআই সেলে ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সমন্বয় করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানোর পর সরকারই এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিজের স্বার্থে বাবর ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের চরম হয়রানি করেছেন। তার প্রস্তাব যারা মানেননি তাদের ওপর নেমে আসে হয়রানি, জুলুম। এখনও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের ওপর তার ক্ষোভ রয়েছে। বাবরের অবৈধ প্রস্তাব ও মোটা অংকের টাকার দাবি মেনে নেননি বলেই নুরুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে রমনা থানায় জিডি করেছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা নিতে পুলিশকে বাধ্য করেন। মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় নুরুল ইসলাম বাবুলকে। পুলিশকে হাত করতে এবং নুরুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে যমুনা গ্রুপের আশুলিয়া হাউজিং প্রকল্পের কাজ পুলিশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। যমুনা গ্রুপের লোকজনকে গ্রেফতার করে হয়রানি করানো হয়। প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন বাবর।
সূত্র জানায়, বাবরকে টিএফআই সেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি তার নানা অপকর্মের কথা স্বীকার করেন। ধূর্ত বাবর তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ হাইকমান্ডের নির্দেশে করেছেন বলে নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। বাবর বসুন্ধরার কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির সাবিবর হত্যা মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ২০ কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। শাহ আলমের কাছে দলের খরচ বাবদ ১০০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তিনি ৫০ কোটি টাকা দিতে সম্মত হন। ২০ কোটি টাকা প্রদানও করেন। জোট সরকারের আমলে চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক মামলাটি তিনি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মদদ জুগিয়েছেন। এ বিষয়ে বাবরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা মামলা ও হবিগঞ্জে সাবেক মন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচ হত্যা মামলার তদন্তে সিআইডিকে দিয়ে নাটক সাজানোর বিষয়েও বাবরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সূত্র জানায়, এসব বিষয় এখন গোয়েন্দাদের কাছে অনেকটা পরিষ্কার।
সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী কানেকশন, ঘুষ গ্রহণ ছাড়াও বাবরের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির কোন শেষ নেই।র্ যাব ও পুলিশের অস্ত্র ক্রয়ে বাবর ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। পুলিশের গাড়ি ক্রয়ে কমিশন পেয়েছেন কয়েক কোটি টাকা।র্ যাব ও পুলিশের ওয়াকিটকি ক্রয়েও তিনি বখরা নিয়েছেন। নিজের স্বার্থ ছাড়ার্ যাব ও পুলিশের জন্য তিনি কিছুই করেননি। ওয়ারিদ টেলিকমের কাছ থেকে নেয়া ৩৫ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে বাবর পেয়েছেন ৫ মিলিয়ন ডলার। সূত্র জানায়, বাবর পুলিশের রেশন থেকে শুরু করে পোশাক পর্যন্ত টেন্ডারবাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাবর তার ভাবী, ভাগ্নে, আত্মীয়-স্বজনসহ ঘনিষ্ঠজনদের নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। সাভারের মিটন গ্রামে খ্রিস্টানদের বাড়ি উচ্ছেদ করে ৯ একর সম্পত্তি দখল করেন। বসুন্ধরার মালিকের কাছ থেকে প্রভাব খাটিয়ে নামমাত্র মূল্যে চারটি প্লট বাগিয়ে নেন। স্বদেশ আবাসিক প্রকল্পে আত্মীয়-স্বজনের নামে একাধিক প্লট রয়েছে তার। উত্তরায় ৩ একর জমি আত্মীয়ের নামে লিজ নিয়ে দখলের পরিকল্পনা ছিল তার। গোয়েন্দাদের তিনি বলেছেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, এবি ব্যাংকে তার প্রায় ২০ কোটি টাকা আছে। দুটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। এছাড়াও বিদেশে কত টাকা পাঠিয়েছেন সে রহস্য এখনও পুরোটা উদঘাটিত হয়নি।
সূত্র জানায়, এসব অপকর্ম ছাড়াও লুৎফুজ্জামান বাবর ওয়ান-ইলেভেনের প্রথম দিকে যৌথ বাহিনীকে পর্যন্ত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এর আগ মুহূর্তেই তাকে তার গুলশানের বাড়ি থেকে ২৯ মে রাতে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়।
তথ্যসূত্র: দৈনিকযুগান্তর
http://jugantor.com/online/news.php?id=133762&sys=1